
সিনিয়ার রিপোর্টার

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরিচিত শক্তি স্পেন ও অস্ট্রিয়া। শেষ ৩২-এর এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয়ী দল নিশ্চিত করবে শেষ ষোলোর টিকিট, যেখানে তাদের অপেক্ষায় রয়েছে পর্তুগাল অথবা ক্রোয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সোফাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি ঘিরে ইতোমধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, দলীয় শক্তি, পরিসংখ্যান এবং অভিজ্ঞতার বিচারে স্পষ্ট ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামছে বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। তবে ইতিহাস গড়ে নকআউটে ওঠা অস্ট্রিয়াও বড় কোনো চমক দেখানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুত।
গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে দুই দলের নকআউট যাত্রা
গ্রুপ এইচে শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি স্পেনের। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র করে কিছুটা চাপে পড়ে যায় লা রোজা। তবে পরবর্তী দুই ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে তারা। উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৯ সম্ভাব্য পয়েন্টের মধ্যে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে জায়গা নিশ্চিত করে স্পেন।
উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন অ্যালেক্স বায়েনা। তবে পুরো গ্রুপ পর্বে স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাদের দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগ। তিন ম্যাচ খেলেও একটি গোল পর্যন্ত হজম করেনি দলটি।
অন্যদিকে, গ্রুপ জে-তে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার পেছনে দ্বিতীয় হয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে অস্ট্রিয়া। শেষ ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে নাটকীয় ৩-৩ গোলে ড্র করে তারা শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করে।
ম্যাচের যোগ করা সময়ের ৯৬তম মিনিটে সাসা কালাইজদজিচের হেডে সমতায় ফেরে অস্ট্রিয়া। সেই গোলই তাদের ইতিহাস গড়ে নকআউটে তুলে আনে।
রক্ষণে দুর্ভেদ্য স্পেন
এই বিশ্বকাপে স্পেনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে উঠেছে তাদের অসাধারণ রক্ষণভাগ।
গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই ক্লিন শিট রেখেছে লা রোজা। আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত প্রথমার্ধে স্পেনের গোলমুখে প্রতিপক্ষ একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ পাঁচ ম্যাচে কোনো দলকে ছয়টির বেশি শট নেওয়ার সুযোগ দেয়নি স্পেন। ১৯৬৬ সালের পর এমন কীর্তি গড়া মাত্র দ্বিতীয় দল তারা। এর আগে ২০২২ সালে একই রেকর্ড গড়েছিল আর্জেন্টিনা।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পেনাল্টি শুটআউট বাদ দিলে স্পেন এখন টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত। জাতীয় দলের ইতিহাসে ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে গড়া ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড স্পর্শ করতে তাদের প্রয়োজন আর মাত্র একটি ম্যাচ।
ইতিহাস গড়ে নকআউটে অস্ট্রিয়া
অস্ট্রিয়ার জন্য এবারের বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই বিশেষ হয়ে উঠেছে।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের ড্র শুধু তাদের নকআউটে তোলেনি, বিশ্বকাপ ইতিহাসেও নতুন একটি অধ্যায় যোগ করেছে। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে পিছিয়ে পড়ার পরও ম্যাচ না হারা বিশ্বকাপের প্রথম দল এখন অস্ট্রিয়া।
একই সঙ্গে ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে তারা। দীর্ঘ ৭২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে রালফ রাংনিকের শিষ্যরা।
মুখোমুখি লড়াইয়ে স্পষ্ট এগিয়ে স্পেন
দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০০৯ সালে। সেই ম্যাচে ডেভিড ভিয়ার জোড়া গোলে ৫-১ ব্যবধানে বড় জয় পেয়েছিল স্পেন।
অন্যদিকে, অস্ট্রিয়ার সর্বশেষ জয়টি আসে ১৯৯০ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে, যেখানে তারা ৩-২ ব্যবধানে স্পেনকে হারিয়েছিল।
ইনজুরিতে চিন্তায় স্পেন
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছে স্পেন শিবির। আক্রমণভাগের তিন ফুটবলার ইয়েরেমি পিনো, নিকো উইলিয়ামস এবং ভিক্টর মুনোজের খেলা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।
তবে উরুগুয়ের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করা অ্যালেক্স বায়েনা দলে নিজের জায়গা ধরে রাখার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।
অন্যদিকে, অস্ট্রিয়ার মার্কো আরনাউটোভিচ ও ডেভিড আলাবা হাঁটুর সামান্য অস্বস্তিতে ভুগলেও গুরুতর কোনো সমস্যা নেই বলে জানা গেছে।
সম্ভাব্য একাদশ
স্পেন: সিমন; লরেন্তে, কুবারসি, লাপোর্তে, কুকুরেয়া; মেরিনো, রদ্রি, পেদ্রি; ইয়ামাল, ওইয়ারসাবাল, বায়েনা।
অস্ট্রিয়া: এ. শ্লাগার; পসচ, লিয়েনহার্ট, আলাবা, মভেনে; সিয়েভাল্ড, এক্স. শ্লাগার; লাইমার, শ্মিড, সাবিতজার; আরনাউটোভিচ।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবেই স্পেনকে এগিয়ে রাখছে।
স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা: ৭৩ শতাংশ
অস্ট্রিয়ার জয়ের সম্ভাবনা: ৯ শতাংশ
ড্র হওয়ার সম্ভাবনা: ১৮ শতাংশ
ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, ম্যাচটি ৩-১ ব্যবধানে জিততে পারে স্পেন।
তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো সমীকরণই শেষ কথা নয়। এক মুহূর্তের ভুল কিংবা এক ঝলক জাদুকরী ফুটবলই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের চিত্র। তাই স্পেন ফেবারিট হলেও ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা অস্ট্রিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এখন দেখার বিষয়, স্পেন কি তাদের দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করতে পারে, নাকি অস্ট্রিয়া আরেকটি রূপকথা লিখে বিশ্বকাপকে উপহার দেয় নতুন চমক।

ক্রিকেট ও ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আজ রয়েছে ব্যস্ত ক্রীড়াসূচি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। একই দিন ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়ার কেপটাউন টেস্টের পঞ্চম দিনের খেলাও অনুষ্ঠিত হবে।
৩ দিন আগে

লা লিগার চলতি মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে টেলিভিশনের পাশাপাশি মোবাইলেও সরাসরি দেখা যাবে হাইভোল্টেজ লড়াইটি।
২৫ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতার কারণে আগের দিনের দর্শক আয়োজন বাতিল হলেও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মাঠে গড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় আমেরিকান ফুটবল লিগ এনএফএলের ম্যাচ। রোববার (২৫ অক্টোবর) প্যারিসের স্তাদ দ্য ফ্রঁস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছে পিটসবার্গ স্টিলার্স ও নিউ অরলিন্স সেইন্টস। ম্যাচ শুরুর সময় স্টেডিয়ামটি প্রায় দর্শকপূর্ণ ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় মাঠ ও আশপাশে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।
২৫ অক্টোবর ২০২৬

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির টানা জয়ের ধারা থামিয়ে দিয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। নিকোলাস জ্যাকসনের জোড়া গোলে নিজেদের মাঠ ভিলা পার্কে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। এই হারে চলতি লিগ মৌসুমে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট হারানোর পাশাপাশি প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেল ম্যানচেস্টার সিটি।
২৪ অক্টোবর ২০২৬

নভেম্বরে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এ মাসে জাপান ও স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলবে কার্লো আনচেলত্তির দল। দুই ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে। ফলে ব্রাজিলের সমর্থকেরা বাংলাদেশ সময় বিকেলেই ম্যাচ দুটি উপভোগ করতে পারবেন।
১৩ অক্টোবর ২০২৬

এশিয়ার মাটিতে আবারও দেখা যাবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। আগামী নভেম্বরে সিঙ্গাপুরে চার জাতির ফুটবল আয়োজনে দুটি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ জাপান, আর দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক সিঙ্গাপুর।
৪ অক্টোবর ২০২৬

কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে দাপুটে জয় পেয়েছে পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল। শনিবার (৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক ভারতকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। এস্তেভাও, পেদ্রো ও স্যামুয়েল লিনোর গোলে জয় নিশ্চিত করে দলটি। স্যামুয়েল লিনো করেছেন জোড়া গোল।
৩ অক্টোবর ২০২৬

কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে চলছে ভারত ও পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। প্রথমার্ধে দুই গোল করে এগিয়ে থাকা ব্রাজিলকে পিছনে রেখেই দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় নেমেছে ভারত। বিরতির পর শুরু হয়েছে ম্যাচের শেষ ৪৫ মিনিটের লড়াই।
৩ অক্টোবর ২০২৬

কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে চলছে ভারত ও পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। সিনিয়র পুরুষ জাতীয় দলের পর্যায়ে প্রথমবার মুখোমুখি হওয়া দুই দলের লড়াইয়ে প্রথমার্ধ শেষে ২-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে ব্রাজিল।
৩ অক্টোবর ২০২৬