ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২

রাকিব

সিনিয়র রিপোর্টার

নতুন আশার আলো সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য, চিন্তায় সাধারণ মানুষ

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ৩০ ২০:৩৩:৩১
নতুন আশার আলো সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য, চিন্তায় সাধারণ মানুষ

রাকিব: নতুন পে কমিশনের সুপারিশ ঘিরে দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর অপেক্ষা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী বাজারদর আর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে থাকা কর্মচারীদের কাছে বেতন বাড়ানোর এই প্রস্তাব একদিকে স্বস্তির বার্তা বয়ে আনলেও, অন্যদিকে এর বাস্তবায়ন ও বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও শঙ্কা।

পে কমিশনের প্রস্তাবিত কাঠামো

নতুন পে কমিশনের সুপারিশে সরকারি বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে-

সর্বনিম্ন বেতন: বর্তমান বেতনের প্রায় আড়াই গুণ বাড়িয়ে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব।

সর্বোচ্চ বেতন: বর্তমানে ৭৮ হাজার টাকার জায়গায় সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার বেশি করার সুপারিশ।

অতিরিক্ত সুবিধা: বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি পেনশন ও বৈশাখি ভাতাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

কর্মচারীদের স্বস্তি, সঙ্গে শঙ্কা

এই খবরে অবসরপ্রান্তিক কর্মচারী জমির উদ্দিন শেখের মতো অনেকেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন। সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা আর সংসারের নিত্য ব্যয় সামলাতে যাঁরা হিমশিম খাচ্ছেন, তাঁদের কাছে এটি বড় আশার জায়গা।তবে সাবেক ও বর্তমান অনেক কর্মকর্তার আশঙ্কা বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি বাড়িভাড়া ও নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে যায়, তাহলে এই বাড়তি আয়ের প্রকৃত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।

সাধারণ মানুষ ও বেসরকারি খাতের দুশ্চিন্তা

সরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে এমন শঙ্কা রয়েছে সাধারণ মানুষ ও বেসরকারি খাতের কর্মীদের মধ্যে। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ কর্মসংস্থান বেসরকারি খাতে, যেখানে নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো নেই। তাঁদের মতে, শুধু সরকারি খাতে বেতন বাড়ালে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে।তাই বেসরকারি খাতের জন্যও ন্যূনতম মজুরি নীতিমালা প্রণয়নের দাবি উঠছে।

অর্থনীতিবিদদের মূল্যায়ন

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন পে কমিশন বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরি মনে করেন, রাজস্ব আদায় কম থাকা এবং বিনিয়োগে স্থবিরতার কারণে এই ব্যয়ের চাপ সরাসরি বাজারে পড়তে পারে। বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সরকার ইতোমধ্যে ২২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রেখেছে। তবে পুরো কাঠামো কবে থেকে কার্যকর হবে সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ