
রিপোর্টার

হাসান: গর্ভাবস্থায় আল্ট্রাসাউন্ডে অনেক সময় দেখা যায়, ভ্রূণের এক বা দুই কিডনি স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বড় বা ফুলে রয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাই ফিটাল হাইড্রোনেফ্রোসিস নামে পরিচিত।
কিডনি ফুলে যাওয়ার মূল কারণ হলো প্রস্রাব বের হওয়ার পথে কোথাও বাধা সৃষ্টি হওয়া। ভ্রূণের ক্ষেত্রে এ ধরনের বাধা সৃষ্টি হওয়ার কয়েকটি সাধারণ কারণ রয়েছে-
সম্ভাব্য কারণসমূহ
১. ইউরেটারোপেলভিক জাংশন অবস্ট্রাকশন (UPJ obstruction)
কিডনি থেকে মূত্রনালি যুক্ত হওয়ার স্থানে সংকোচন থাকলে প্রস্রাব ঠিকভাবে নিচে নামতে পারে না। ফলে কিডনিতে জমে ফুলে যেতে পারে।
২. ইউরেটারোভেসিকাল জাংশন অবস্ট্রাকশন (UVJ obstruction)
ইউরেটার থেকে ব্লাডারে প্রবেশের স্থানে বাধা তৈরি হলে একই ধরনের পানি জমার সমস্যা দেখা দেয়।
৩. ভেসিকো ইউরেটেরাল রিফ্লাক্স (VUR)
ব্লাডার থেকে প্রস্রাব উল্টো পথে কিডনির দিকে ফিরে এলে কিডনি ফুলে যেতে পারে। এটি শিশুদের মাঝে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
৪. পোস্টেরিয়র ইউরেথ্রাল ভাল্ভ (PUV)
এটি বিশেষভাবে ছেলেশিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। ইউরেথ্রার নিচের অংশে অতিরিক্ত ঝিল্লি থাকায় প্রস্রাব বের হওয়ার পথে গুরুতর বাধা সৃষ্টি হয়।
৫. স্বাভাবিক ভ্যারিয়েশন
অনেক সময় খুব হালকা মাত্রার হাইড্রোনেফ্রোসিস কোনো রোগ ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে ঠিক হয়ে যায়। প্রায় ৫০–৭০% ক্ষেত্রে আল্ট্রাসাউন্ডে দেখা এ সমস্যা জন্মের পর নিজে থেকেই সেরে যায়।
জন্মের পর করণীয়
যদি আল্ট্রাসাউন্ডে কিডনিতে পানি জমার বিষয়টি ধরা পড়ে কিন্তু মা বা শিশুর তাত্ক্ষণিক কোনো ঝুঁকি না থাকে, তাহলে পুরো গর্ভকাল শেষে স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব করা সম্ভব।
জন্মের পর ৩–৫ দিনের মধ্যে শিশুর কিডনির আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো জরুরি এখনো পানি জমা আছে কি না তা নিশ্চিত হতে হবে।
যদি কিডনিতে ফোলা বা পানি জমার সমস্যা স্থায়ীভাবে থাকে, তাহলে দ্রুতই শিশু সার্জারি বা শিশু ইউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ছেলেশিশুর ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।