
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা সরকারি কর্মচারীরা এবার তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘোচাতে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আলটিমেটাম দিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল হাসান ও মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই আন্দোলনের রূপরেখা জানানো হয়।
আলটিমেটাম ও পরবর্তী হুঁশিয়ারি
সংগঠনটি স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে যদি ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর ২৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
কর্মচারীদের অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেলে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের চরম বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। বিগত সরকারগুলোর কাছে বারবার ধর্ণা দিয়েও কোনো সমাধান মেলেনি। কর্মচারীদের মতে, ১৯৯১ ও ২০০৫ সালে বিএনপির শাসনামলে তুলনামূলক সম্মানজনক পে-স্কেল দেওয়া হয়েছিল। অথচ গত ১১ বছর ধরে কর্মচারীরা নতুন কোনো পে-স্কেল পায়নি। ৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে বর্তমান বাজারের আকাশছোঁয়া মূল্যে জীবনধারণ করা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘোষিত নতুন কর্মসূচি:
দাবি আদায়ে সংগঠনটি নিম্নোক্ত ধাপগুলো অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে:
২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সাথে সাক্ষাৎ এবং প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান।
কেন্দ্রীয় পর্যায়ে: কেন্দ্রীয় নেতারা সরাসরি মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি দেবেন।
রমজান মাস জুড়ে: বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রতিনিধি সমাবেশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকার দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল উপহার দেবে।