
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে মুশফিকুর রহিমের নাম এক গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রায় ১৯ বছরের দীর্ঘ ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তিনি অনেক রেকর্ড ও অর্জন অর্জন করেছেন, যদিও দলের শিরোপা সংখ্যা অতটা বেশি নয়। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। তার হাত ধরেই অনেক প্রথমবারের ঘটনা ঘটেছে এবং অনেক রেকর্ড নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যেখানে তিনি বহু প্রাক্তন ক্রিকেটারকে ছাড়িয়ে গেছেন।
এখন, ২০২৫ সালের বুধবার রাতে মুশফিক তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন। আর তাকে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে আর মাঠে দেখা যাবে না। তবে বিদায়ের এই মুহূর্তে তার অসাধারণ অর্জনগুলো একবার পুনরায় তুলে ধরলে, বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার অবদান আরও স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
রেকর্ডের নতুন দিগন্ত
মুশফিক বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ১২৪টি ওয়ানডে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছেন। তার পরেই আছেন সাকিব আল হাসান (১১৭ জয়), মাহমুদউল্লাহ এবং তামিম ইকবাল (প্রতিটি ১০৯ জয়)।
এছাড়া, মুশফিক ২৭৪টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার রেকর্ডও গড়েছেন, যা অন্য কোনো ক্রিকেটারের পক্ষে সম্ভব হয়নি। সাকিব আল হাসান দ্বিতীয় স্থানে আছেন, যিনি ২৪৭টি ওয়ানডে খেলেছেন।
টানা খেলার রেকর্ড
বাংলাদেশের হয়ে টানা সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার রেকর্ডও মুশফিকের দখলে। ২০১০ সালের ১৫ জুলাই থেকে ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি টানা ৯২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। তার আগে রেকর্ডটি ছিল তামিম ইকবালের, যিনি ৮৫টি ম্যাচ খেলেছিলেন।
ঝড়ের নাম মুশফিক
বাংলাদেশের দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ডও মুশফিকের দখলে। ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেটে মাত্র ৬০ বলে ১০০ রান পূর্ণ করেছিলেন তিনি, যেখানে ছিল ১৪টি চার এবং ২টি ছক্কা। একই বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬৯ বলে সেঞ্চুরি করে দেশের চতুর্থ দ্রুততম সেঞ্চুরির কীর্তিও তার।
রানে দ্বিতীয়, সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয়
মুশফিক ওয়ানডেতে ৭,৭৯৫ রান করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ৯টি সেঞ্চুরি। তার পরেই আছেন তামিম ইকবাল, যিনি ১৪ সেঞ্চুরিতে ৮,৩৫৭ রান করেছেন।
ছক্কা-রেকর্ড
বাংলাদেশের হয়ে ছক্কার সেঞ্চুরি করা তিন ব্যাটসম্যানের মধ্যে মুশফিকও একজন। তার ক্যারিয়ারে ১০০টি ছক্কা হয়েছে, যা একটি বড় মাইলফলক। তামিম ইকবালের ১০৩টি এবং মাহমুদউল্লাহর ১০৭টি ছক্কার রেকর্ডের পর মুশফিকের নাম রয়েছে।
কিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে রেকর্ড
২৭৪টি ওয়ানডে ম্যাচের মধ্যে ২৬০টি ম্যাচেই মুশফিক উইকেট কিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। এই ক্যাটেগরিতে কেবল চারজন কিপারের কাছে তিনি পরাজিত হয়েছেন—কুমার সাঙ্গাকারা (৩৬০ ম্যাচ), মাহেন্দ্র সিং ধোনি (৩৫০), মার্ক বাউচার (২৯৪) এবং অ্যাডাম গিলক্রিস্ট (২৮২)। কিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে তার রান সংগ্রহ ৭,২৫৪, যেখানে তিনি সাঙ্গাকারা, গিলক্রিস্ট এবং ধোনির পরে রয়েছেন।
কিপিং গ্লাভসে রাজত্ব
কিপিং গ্লাভসে মুশফিক ২৪১টি ক্যাচ নিয়েছেন এবং ৫৬টি স্টাম্পিং করেছেন, যার ফলে তার মোট ডিসমিসাল হয়েছে ২৯৭টি, যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ডটি ছিল খালেদ মাসুদের (১২৬ ডিসমিসাল)।
কিপিং রেকর্ডে আক্ষেপ
ওয়ানডে ইতিহাসে তিনশো ডিসমিসালের রেকর্ড গড়তে মুশফিক মাত্র তিনটি ডিসমিসাল দূরে ছিলেন। তবে তার কিপিং ক্যারিয়ার ২৯৭ ডিসমিসালেই শেষ হয়েছে। সবার ওপরে আছেন কুমার সাঙ্গাকারা (৪৮২ ডিসমিসাল), অ্যাডাম গিলক্রিস্ট (৪৭২) এবং মাহেন্দ্র সিং ধোনি (৪৪৪)।
পাঁচের জোড়া
মুশফিক একমাত্র কিপার যিনি এক ওয়ানডেতে পাঁচটি ক্যাচ নিয়েছেন। দুই দফায় এই কীর্তি তিনি গড়েছেন, এবং এক ম্যাচে পাঁচটি ডিসমিসাল করার রেকর্ডও তারই।
সেরা জুটি
বাংলাদেশের হয়ে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে মুশফিকের জুটি সবচেয়ে সফল। তাদের অংশীদারিত্বে এসেছে ৩,৫৪৫ রান, যা বাংলাদেশের অন্য কোনো জুটির পক্ষে সম্ভব হয়নি। এছাড়া, মাহমুদউল্লাহ এবং তামিম ইকবালের সঙ্গেও তার সেরা জুটিগুলোর মধ্যে রেকর্ড রয়েছে।
অধিনায়কত্ব
মুশফিক ৩৭টি ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যা তামিম ইকবালের সমান। তবে তাদের চেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন আরও চারজন ক্রিকেটার।
মুশফিকুর রহিমের ওয়ানডে ক্যারিয়ার বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের একটি অমূল্য অংশ হয়ে থাকবে, যেখানে তার প্রতিটি অর্জন ও রেকর্ড ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
হাসান/

৩ দিন আগে

৩ দিন আগে

হারারে স্পোর্টস ক্লাবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে দারুণ অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। জিম্বাবুয়ের টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্তের পর ব্যাট করতে নেমে ৩১.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২০৯ রান সংগ্রহ করেছে অস্ট্রেলিয়া।
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যকার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে শুরু থেকেই ব্যাট হাতে দাপট দেখাচ্ছে ভারত। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দ্রুত রান তুলছে ভারত।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খেলাপ্রেমীদের জন্য আজকের দিনটি বেশ ব্যস্ততায় কাটবে। ক্রিকেট, টেনিস ও ফুটবল—তিন জনপ্রিয় খেলাতেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। এর মধ্যে নারী এশিয়া কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেট ও ইউএস ওপেনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচও সরাসরি দেখা যাবে টেলিভিশনে।
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুবাইয়ে নারী এশিয়া কাপের প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের দেওয়া ১৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ভারতের ইনিংস শেষে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে বাংলাদেশের ইনিংসের ২ দশমিক ১ ওভার শেষে ১৪ রান এসেছে, কোনো উইকেট হারায়নি নিগার সুলতানার দল।
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২৪ সালের নারী এশিয়া কাপে ভারতের কাছে হেরে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। এবার সেই হারের স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুন লড়াইয়ের অপেক্ষায় নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ডাম্বুলার পর এবার দুবাইয়ের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে টাইগ্রেসরা।
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সামনে ব্যস্ত সূচি। আগামী অক্টোবর মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের অংশগ্রহণে বসতে যাচ্ছে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ। ১৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের পর্দা নামবে ২৩ অক্টোবর ফাইনালের মধ্য দিয়ে।
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে এবারও পদকের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। তবে পদকের মঞ্চে পৌঁছাতে হলে শুরুতেই কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে দুই দলকে। পুরুষ ও নারী—উভয় দলই সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে নিজেদের অভিযান শুরু করবে। ফলে প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নিতে পারলে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হবে। আর সেই ধাপ পেরোতে পারলেই ব্রোঞ্জ নয়, সোনার পদকের লড়াইয়ে নামার সুযোগ তৈরি হবে বাংলাদেশের।
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬