
রিপোর্টার

দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে চলমান প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন এই বেতন কাঠামোর কাজ প্রায় শেষের পথে এবং খুব দ্রুত মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ার পরই এর গেজেট প্রকাশের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন বেতন কাঠামো প্রবর্তনের খবরে লাখ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর মধ্যে স্বস্তির বাতাস বইতে শুরু করেছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই পে স্কেল চালুর ফলে দেশের সরকারি প্রশাসনিক কাঠামো ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নবম পে স্কেলের এক দশক পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব ও কমিশনের সুপারিশসমূহ
বাংলাদেশে সর্বশেষ অর্থাৎ অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি, যদিও প্রতিবছর নিয়মিতভাবে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের পক্ষ থেকে নতুন পে স্কেলের দাবি অত্যন্ত জোরালো হয়ে উঠেছিল।
পরিস্থিতি বিবেচনায় গত বছরের জুলাই মাসে নবম জাতীয় পে কমিশন সরকারের কাছে তাদের বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার সুপারিশ করা হয়েছিল। প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল একটি পৃথক উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে পুরো পে স্কেলটি পুনর্বমূল্যায়নের উদ্যোগ নেয় এবং সেই কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হচ্ছে।
আইএমএফের আপত্তির বিপরীতে সরকারের দৃঢ় অবস্থান ও অক্টোবরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি
অর্থ বিভাগ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) বাজেট ঘাটতি ও রাজস্ব ব্যয়ের সম্ভাব্য চাপ এড়াতে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। সংস্থাটির মতে, এই মুহূর্তে বড় অংকের বেতন বৃদ্ধি দেশের মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে সরকার আন্তর্জাতিক এই সংস্থার সেই পরামর্শ সরাসরি গ্রহণ করেনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নতুন পে স্কেলের সামগ্রিক আর্থিক প্রভাব ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর নীতিগতভাবে এটি দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে আইএমএফের ঋণের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। বরং চলতি বছরের অক্টোবর মাসে আইএমএফের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই গেজেট প্রকাশ করে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার সর্বাত্মক প্রস্তুতি চলছে।
নতুন পে স্কেলের বিশাল আর্থিক চাপ, অতিরিক্ত ব্যয় এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষা
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্কলন অনুযায়ী, নবম পে স্কেল কার্যকর হলে এর প্রত্যক্ষ সুফল পাবেন প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দেশের কয়েক লাখ পেনশনভোগী। কেবল মূল বেতনই নয়, এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা এবং সামগ্রিক পেনশন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে। অর্থনীতিবিদদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, নতুন এই পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
ফলে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং সরকারি বাজেট ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় বাড়তি দক্ষতা অর্জন করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তা সত্ত্বেও সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নীতিগত অনুমোদন পাওয়ায় এখন কেবল আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব উপস্থাপনের অপেক্ষা। মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন ملলেই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল কাঙ্ক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথ চিরতরে উন্মুক্ত হয়ে যাবে।

দেশের সামগ্রিক ব্যবসা এবং বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও গতিশীল, আধুনিক ও সহজতর করার লক্ষ্যে ২২ সদস্যের একটি শক্তিশালী ‘বিনিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা সহজীকরণ বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে সরকার। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের লালিত জটিলতা দূর করতে এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে

দেশের মাধ্যমিক ও সমমানের সাম্প্রতিক পাবলিক পরীক্ষায় এক নজিরবিহীন ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছর দেশের মোট ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি—অর্থাৎ শতভাগ ফেল করেছে। এই ভয়াবহ ফল বিপর্যয়ের মূল কারণগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দাখিল পরীক্ষায় শূন্য পাস করা ২২৬টি মাদ্রাসার প্রধানদের আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড।
৭ ঘণ্টা আগে

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় হু হু করে বেড়ে যাওয়ার ফলে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এই বাস্তবতায় লাখো কর্মচারীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন দ্রুত প্রকাশ ও তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে

লাখো পরীক্ষার্থীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে ২০২৫ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের খাতা পুনঃনিরীক্ষণ বা বোর্ড চ্যালেঞ্জের ফল। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট সকাল ১০টায় একযোগে এই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
৮ ঘণ্টা আগে

দেশের বুলিয়ন বাজারে আবারও এক ঐতিহাসিক ও রেকর্ড দাম বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম লাগাতার বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর মূল্য নতুন করে সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ ক্রেতা ও মধ্যবিত্তের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
৮ ঘণ্টা আগে

অবশেষে কাটল দীর্ঘ প্রতীক্ষা! সারা দেশে একযোগে প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল। এ বছর পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা—উভয় ক্ষেত্রেই দেখা গেছে ইতিবাচক ও সাফল্যমণ্ডিত চিত্র। কাঙ্ক্ষিত ফল হাতে পেয়ে শিক্ষার্থী ও
২ দিন আগে

দেশের স্বর্ণের বাজারে ফের বড় পরিবর্তন। একদিনের ব্যবধানেই ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে এখন গুনতে হবে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা।
৪ দিন আগে

রাজধানী ঢাকায় আজ দুপুরের মধ্যেই বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে সন্ধ্যার মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
৪ দিন আগে

বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাই মাসের বেতন, বাড়িভাড়া ও ইনক্রিমেন্ট নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে পারে আগামী সপ্তাহেই। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বর্তমানে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে চলমান রয়েছে।
৪ দিন আগে