ঢাকা, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২

রাকিব

সিনিয়র রির্পোটার

যত দিনে বাস্তবায়ন হতে পারে নতুন পে-স্কেল!

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ২৩:২৭:৩৭
যত দিনে বাস্তবায়ন হতে পারে নতুন পে-স্কেল!

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ হওয়ার প্রাক্কালে দেশের অর্থনীতি ও বহুল আলোচিত নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো একবারে একটি বাজেটে বাস্তবায়ন না করে পর্যায়ক্রমে দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে কার্যকর করাই হবে অধিকতর বাস্তবসম্মত ও অর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ পদক্ষেপ।

তার মতে, অর্থনীতির ওপর হঠাৎ বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি না করে ৬ মাস অন্তর কিস্তিভিত্তিক বাস্তবায়ন করলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হবে।

নতুন বেতন কাঠামোর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রায় এক যুগ ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি হয়নি। বিশেষ করে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মাত্র ৮ হাজার টাকা মূল বেতনে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে জীবনধারণ প্রায় অসম্ভব।

তিনি তুলনা টেনে বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশেও নিয়মিত বেতন সমন্বয় করা হয়। তাই সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন শতভাগ জরুরি। তবে তা করতে হবে পরিকল্পিত উপায়ে, যাতে সামগ্রিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি না হয়।

দায়িত্ব পালনকালকে ‘এক্সাইটিং’ বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, নীতিগত সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে তার।

উদাহরণ হিসেবে তিনি রমজান মাসে খেজুরের শুল্ক কমানো এবং স্বল্পমূল্যে সবজি বিক্রির উদ্যোগের কথা বলেন, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়েছে।

তবে সব অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। সচিবালয়ে বেতন-ভাতার দাবিতে ঘেরাও হওয়াকে তিনি তার জীবনের অন্যতম খারাপ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন। আমলাতন্ত্র সম্পর্কে পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, অনেক কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার ও বদলি নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ২-৩ মাস পর্যন্ত আটকে থাকে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব সৃষ্টি করে। তিনি দেশের স্বার্থে সমন্বিত ও দায়বদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে নির্বাচিত সরকারের জন্য কয়েক পৃষ্ঠার একটি ‘সাকসেসর নোট’ রেখে যাচ্ছেন বলে জানান অর্থ উপদেষ্টা। সেখানে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন—

ব্যাংক খাতের সংস্কার: চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার হয়।

জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: ব্যাংক খাতের অনিয়ম রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক-কেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

পুঁজিবাজার ও মুদ্রাবাজারের সমন্বয়: অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এই দুই বাজারের কার্যকর সমন্বয় জরুরি।

সবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নির্বাচিত সরকার নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ