-3.jpg)
সিনিয়র রির্পোটার

রাকিব: আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে মাধ্যমিক ও উচ্চবিদ্যালয় খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে রমজানজুড়ে স্কুল বন্ধ রাখার পথ কার্যত উন্মুক্ত হলো।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসান-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন।
কীভাবে শুরু হলো আইনি লড়াই?
রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ২০ জানুয়ারি রিট দায়ের করেন আইনজীবী ইলিয়াছ আলী মন্ডল। এর আগে ৫ জানুয়ারি তিনি সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন।
রিটের শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সাংবিধানিক ও সামাজিক যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। সেগুলো বিবেচনায় নিয়েই আদালত স্থগিতাদেশ জারি করেন।
রিটের প্রধান যুক্তি কী ছিল?
রিট আবেদনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়—
আইন ও প্রথার প্রশ্ন
স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার একটি দীর্ঘকালীন রীতি চালু রয়েছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী, আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো প্রথা বা রীতিও ‘আইন’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। তাই রমজানে স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক—এমন যুক্তি তুলে ধরা হয়।
শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা ও ধর্মীয় অনুশীলন
আবেদনে বলা হয়, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সারাদিন ক্লাস ও যাতায়াতের চাপে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এতে তাদের রোজা রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে সমস্যা হয় এবং ধর্মীয় আচার পালনে বিঘ্ন ঘটে।
যানজট ও জনদুর্ভোগ
বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় রমজান মাসে অতিরিক্ত যানজট সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায়। স্কুল খোলা থাকলে এ পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে—এমন যুক্তিও উপস্থাপন করা হয়।
আদালতের সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য প্রভাব
উপস্থাপিত যুক্তিগুলো আমলে নিয়ে হাইকোর্ট রমজান মাসে মাধ্যমিক ও উচ্চবিদ্যালয় খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।
এর ফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রমজান মাসে ধর্মীয় অনুশীলন এবং পারিবারিক পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগও বাড়বে।