-5.jpg)
সিনিয়র রিপোর্টার

রাকিব: দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৈষম্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে আন্দোলন করে আসা সরকারি চাকরিজীবীদের সংগঠন দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ পুনর্গঠিত সরকারের কাছে তাদের দাবিগুলো নতুনভাবে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরাসরি সাক্ষাৎ করে নবম পে–স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানানো হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ চাওয়ার প্রস্তুতি;
পরিষদের মূখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী শনিবার গণমাধ্যমকে জানান, তারা খুব শিগগিরই নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া তারেক রহমান–এর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করবেন।
তাদের লক্ষ্য—সরকার গঠনের প্রাথমিক পর্যায়েই বেতন কাঠামো সংস্কারকে অগ্রাধিকার তালিকায় নিয়ে আসা।
কারা যুক্ত এই আন্দোলনে?;
ঐক্য পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, সচিবালয়ের বাইরের বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটে বর্তমানে শিক্ষকসহ প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী যুক্ত আছেন।
২০১৫ সালের পে–স্কেলে বৈষম্য রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তারা কয়েক বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। সংগঠনের ভাষ্য, বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে নিম্ন–গ্রেডের কর্মচারীরা চরম আর্থিক চাপে পড়েছেন।
সরকারের কাছে ৭ দফা দাবি;
ঐক্য পরিষদ ইতোমধ্যে সরকারের কাছে সাত দফা দাবি সম্বলিত চিঠি দিয়েছে। তাদের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো—
বৈষম্যহীন নবম পে–স্কেল বাস্তবায়ন; সর্বনিম্ন মূলবেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ
টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল
স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের পেনশন সুবিধা চালু
ব্লক–পোস্টসহ সব পদে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর উচ্চতর গ্রেড প্রদান
মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাতা পুনর্নির্ধারণ এবং রেশন ব্যবস্থা চালু
চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর এবং অবসরের বয়স ৬২ বছর নির্ধারণ
প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত কর্মচারীদের পূর্বের চাকরিকাল গণনায় বৈষম্যমূলক আদেশ বাতিল
প্রত্যাশা ও বাস্তবতা;
সংগঠনটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তারা ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই নতুন সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা—এবার যেন বেতন কাঠামো সংস্কার ও আর্থিক ন্যায্যতা নিশ্চিত হয়।
সরকার গঠনের প্রাক্কালে এই দাবিগুলো কতটা গুরুত্ব পায় এবং দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত আসে কিনা, সেটিই এখন লাখো কর্মচারীর প্রধান আগ্রহের বিষয়।