ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২

হাসান

রির্পোটার

বিয়ের পর পুরুষ নাকি নারীর মধ্যে অসন্তুষ্টি বেশি: জরিপ প্রকাশ

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ২৩:৫৮:২১
বিয়ের পর পুরুষ নাকি নারীর মধ্যে অসন্তুষ্টি বেশি: জরিপ প্রকাশ

হাসান: “বিয়ের লাড্ডু খেলে সবাই পরে পস্তায়”—এই প্রচলিত কথাটি বাস্তবে কাদের ক্ষেত্রে বেশি প্রযোজ্য? সাম্প্রতিক একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, বিয়ের পর হতাশার পাল্লা নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে সমান নয়। বরং পুরুষদের তুলনায় নারীদের অসন্তুষ্টি বাড়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, বিয়ে বা সঙ্গীর সঙ্গে বসবাস শুরু করার পর পুরুষরা সাধারণত মানসিকভাবে বেশি সন্তুষ্ট থাকেন। অন্যদিকে অনেক নারী জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের অসন্তুষ্টি বেড়ে যায়। গবেষকদের মতে, ‘সন্তুষ্টি’ অনুভব করার ধরন ও তার স্থায়িত্ব নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে কাজ করে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, সম্পর্কের ক্ষেত্রে বয়সের ব্যবধান বা সামাজিক রীতির চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো পারস্পরিক বোঝাপড়া, স্বচ্ছতা ও সম্মান। ব্যক্তিগত আনন্দ এবং মানসিক প্রশান্তি থাকলেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়।

নারীদের সুখের সময়কাল বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন ভিন্ন এক চিত্র। অধ্যাপক বেলিন্ডা হিউইটের নেতৃত্বে পরিচালিত ১৮ বছরব্যাপী এক গবেষণায় প্রায় ২ হাজার ৮২০ জনের জীবনযাপন ও মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, নারীরা সবচেয়ে বেশি সুখী থাকেন যখন তারা প্রেম, লিভ-ইন বা বিয়ের পরিকল্পনার পর্যায়ে থাকেন।

বিয়ের আগের প্রস্তুতি, স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নারীদের মানসিকভাবে পরিপূর্ণ করে তোলে। তবে বিয়ের প্রায় এক বছর পর সেই আনন্দ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। গবেষকদের ব্যাখ্যায়, পরিকল্পনার উত্তেজনা শেষ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক দায়িত্বের চাপ নারীদের সুখের মাত্রা কমিয়ে দেয়।

অন্য এক জরিপে উঠে এসেছে বয়সের পার্থক্য সম্পর্কের মানসিক প্রভাবেও ভূমিকা রাখে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নারীদের ওপর চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, বয়সে ছোট পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে থাকা নারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি আত্মবিশ্বাসী ও মানসিকভাবে সচেতন হন। তারা নিজেদের আবেগ, স্বাধীনতা ও বুদ্ধিমত্তা আরও স্পষ্টভাবে অনুভব করেন।

যদিও সমাজে এখনও বয়সে ছোট সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ককে নেতিবাচক চোখে দেখা হয়, পরিসংখ্যান বলছে এই ধরনের সম্পর্ক অনেক সময় সমবয়সী সম্পর্কের চেয়েও গভীর ও স্থিতিশীল হতে পারে।

সব গবেষণার সারকথা একটাই সুখ কোনো সামাজিক কাঠামো বা বয়সের সমীকরণে বন্দী নয়। এটি নির্ভর করে সম্পর্কের গুণমানের ওপর।বিয়ের আগে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বেশি থাকে, আর বিয়ের পর বাড়ে দায়িত্ব ও প্রত্যাশার চাপ। তবে যেখানে পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া এবং নিজের সত্তা প্রকাশের সুযোগ থাকে, সেখানে সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়।

সংক্ষেপে বলা যায়, বিয়ের পর পুরুষরা সাধারণত বেশি সন্তুষ্ট থাকলেও নারীদের ক্ষেত্রে অসন্তুষ্টি বাড়ার ঝুঁকি থাকে। তবে সম্পর্কের মান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বজায় থাকলে এই ব্যবধান কমানো সম্ভব।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ