
রিপোর্টার

বিশ্ব অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলতেই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম নিম্নমুখী হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও, ফলে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় দুপুরে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম নেমে আসে প্রায় ৪,৬০৪ ডলারে। একই ধারায় ফিউচার মার্কেটেও দর কিছুটা কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার দ্রুত কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে ধীরে ধীরে সরে অন্য খাতে ঝুঁকছেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক কাইল রোডা মনে করেন, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উত্তেজনা শিথিল হওয়ার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে সোনার প্রতি আগ্রহ কমেছে। এ কারণেই মূল্যবান এই ধাতুর দামে নিম্নগতি দেখা যাচ্ছে।
দেশের বাজারে নতুন দর
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব অনুসরণ করে দেশেও সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর নতুন দর অনুযায়ী—
২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা
২১ ক্যারেট: ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা
১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা
সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা
শুধু সোনা নয়, বৈশ্বিক বাজারে রুপা ও প্লাটিনামের দামও কমেছে, যার ফলে মূল্যবান ধাতুর সামগ্রিক বাজারে মন্দাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদি পতন?
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই দরপতন স্থায়ী নাও হতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ডলারের ওঠানামা কিংবা নতুন ভূরাজনৈতিক সংকট তৈরি হলে সোনার দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার সঙ্গে বাজার পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।