
রিপোর্টার

বগুড়ায় সাংগঠনিক ঐক্য ফেরাতে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত ১০ নেতার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে তাদের আবারও দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
কেন প্রত্যাহার হলো বহিষ্কারাদেশ?
বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী জানান, অতীতে দলীয় নীতি ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে এসব নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা ও দলে ফেরার আবেদন করেন। বিষয়টি বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
যারা দলে ফিরলেন
পুনর্বহাল হওয়া নেতারা বগুড়ার তিনটি উপজেলার বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল নেতা—
নন্দীগ্রাম
এ কে আজাদ – সাবেক সভাপতি, উপজেলা বিএনপি
কামরুল হাসান জুয়েল – সভাপতি, পৌর বিএনপি
কাহালু
জোবাইদুর রহমান সবুজ
শাহ মেহেদী হাসান রঞ্জু
আব্দুল মান্নান
জাহিদ হাসান জালাল
মাহবুবুর রহমান বাবু
আলমগীর হোসেন আলম
গাবতলী
আব্দুল করিম – সাবেক সদস্য, পৌর বিএনপি
সাজেদুল আলম রাসেল – সাবেক সহ-সভাপতি, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপি
নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ঐক্যের বার্তা
দলে ফিরে নেতারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তারা দলীয় শৃঙ্খলা মেনে কাজ করবেন এবং কোনো ধরনের বিভেদমূলক তৎপরতায় জড়াবেন না। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকারও করেছেন তারা।
বগুড়ায় ধারাবাহিক পুনর্বহাল
নতুন বছরের শুরু থেকেই বগুড়ায় দল গোছানোর উদ্যোগ জোরদার হয়েছে—
৪ জানুয়ারি: সারিয়াকান্দির ৯ নেতা, যার মধ্যে লুৎফুল হায়দার রুমি ও শহিদুল ইসলাম স্বপন উল্লেখযোগ্য—তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার।
৫ জানুয়ারি: জেলা ও কাহালু যুবদলের ৪ নেতাকে দলে ফিরিয়ে আনা।
১৪ জানুয়ারি: তৃতীয় দফায় আরও ১০ নেতার পুনর্বহাল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতাদের এক ছাতার নিচে আনার এই উদ্যোগ বগুড়ায় বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বহুগুণ বাড়াবে।