ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

রাকিব

সিনিয়র রিপোর্টার

নির্বাচনের আগে প্রার্থী সংকট: রইল না বিএনপির কোনো প্রার্থীই!

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১৬:১৮:৩২
নির্বাচনের আগে প্রার্থী সংকট: রইল না বিএনপির কোনো প্রার্থীই!

রাকিব: শেরপুর-২ (নকলা–নালিতাবাড়ী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশা। দলীয় মনোনীত প্রার্থীসহ একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় ভোটের মাঠে বিএনপির অবস্থান এখন প্রশ্নের মুখে।

মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। একই সঙ্গে দলীয় মনোনয়ন সংযুক্ত না থাকায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ইলিয়াস খানের মনোনয়নও বাতিল করা হয়। এতে করে নির্বাচনের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বিএনপি।

অন্যদিকে ঋণখেলাপির দায়ে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বেলালের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় শেরপুর-২ আসনে মূলধারার তিনটি বড় রাজনৈতিক দলই কার্যত মাঠের বাইরে চলে যায়। ফলে বর্তমানে নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ভিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়েশের মধ্যে।

তবে এখানেও রয়েছে ভিন্ন সমীকরণ। রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে জোটগত সমঝোতা হলে শেষ পর্যন্ত একজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিএনপির শেষ ভরসা কে?

এই পরিস্থিতিতে বিএনপির সব আশা এখন আপিলের ওপর। আগামী ৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগে শুনানির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে ফাহিম চৌধুরী কিংবা ইলিয়াস খানের ভাগ্য। ফাহিম চৌধুরীর পক্ষে যুক্তি হলো, তিনি গত ২৬ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন জমা দিয়েছেন। যদি সেই আবেদনের গ্রহণযোগ্য রিসিভ কপি আপিলে উপস্থাপন করা যায়, তাহলে তার প্রার্থিতা বহাল থাকার সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপির একটি অংশ মনে করছে, এত অল্প সময়ে নাগরিকত্ব বাতিলের গৃহীত কপি সংগ্রহ করা কঠিন হবে। সেক্ষেত্রে দল বিকল্প হিসেবে ইলিয়াস খানকে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে আপিলে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করতে পারে। যদিও ইলিয়াস খানের মনোনয়ন ফরমে স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন থাকায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

মাঠে কারা ছিলেন, কারা টিকলেন

নির্বাচনি হাওয়া শুরুর পর বিএনপিতে এই আসন থেকে প্রার্থী হতে আগ্রহ দেখান অন্তত আটজন। বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, এবি পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন মিলিয়ে মোট ১২টি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করেন পাঁচজন।

তাদের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে টিকে আছেন শুধু জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ভিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়েশ।

৯ জানুয়ারির দিকেই তাকিয়ে শেরপুর-২

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, আপিলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারলে ফাহিম চৌধুরী কিংবা ইলিয়াস খান দুজনেরই প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সবকিছুই এখন আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে জোটের প্রার্থী হিসেবে আব্দুল্লাহ আল কায়েশ এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, আবার জামায়াত সমর্থকদের মধ্যেও গোলাম কিবরিয়ার বিজয় নিয়ে আলোচনা জোরালো। সব মিলিয়ে শেরপুর-২ আসনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আগামী ৯ জানুয়ারি হয়ে উঠেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ