
রিপোর্টার

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে নানা আলোচনা, প্রত্যাশা ও জল্পনা-কল্পনা। বিশেষ করে নতুন পে-স্কেলের গেজেট কবে প্রকাশ হবে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সরকার কি ইচ্ছাকৃতভাবে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব করছে? তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে ভিন্ন চিত্রই সামনে আসে।
জানা গেছে, গত ১৮ জুন অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নতুন পে-স্কেলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও কিছু জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয় চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে সেসব অমীমাংসিত বিষয় নিষ্পত্তির জন্য আগামী ২৪ জুন পুনরায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বৈঠক থেকেই পে-স্কেলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং গেজেট প্রকাশের পথ অনেকটাই পরিষ্কার হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি জাতীয় পে-স্কেল শুধু বেতন বৃদ্ধির বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর আর্থিক স্বার্থ, রাষ্ট্রের বাজেট, প্রশাসনিক কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা। ফলে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও ভবিষ্যতে বড় ধরনের জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণেই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।
গেজেট প্রকাশে বিলম্বের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
প্রথমত;
আইনি যাচাই ও বিধিমালা সংশোধনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন পে-স্কেল কার্যকর করতে হলে বিদ্যমান বিভিন্ন বিধিমালা ও প্রশাসনিক নির্দেশনা সংশোধন করতে হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ আইনি যাচাই ছাড়া গেজেট প্রকাশ করা হলে পরবর্তীতে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই প্রতিটি ধারা ও উপধারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত;
অর্থ অবমুক্তি ও রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারের ওপর অতিরিক্ত বড় অঙ্কের আর্থিক দায় সৃষ্টি হবে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা এমন একটি কাঠামো চূড়ান্ত করতে চান, যাতে রাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনায় হঠাৎ কোনো চাপ সৃষ্টি না হয়। এ কারণে অর্থ ছাড় এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।
তৃতীয়ত;
১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূরীকরণ বিষয়টি এখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের মধ্যে অনেক দিন ধরেই বেতন কাঠামো নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। এবার সেই বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও কী পদ্ধতিতে তা বাস্তবায়ন হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বেতন বৃদ্ধির হার শতাংশভিত্তিক হবে, নাকি কিছু ক্ষেত্রে শতভাগ সমন্বয়ের পথ নেওয়া হবে—এই সিদ্ধান্তের ওপর লাখো কর্মচারীর আর্থিক সুবিধা নির্ভর করছে।
চতুর্থত;
বেতন নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিও এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে সরকারি বেতন ব্যবস্থাপনার প্রধান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নতুন পে-স্কেলের জটিল হিসাব সংযোজন করা হবে কি না, অথবা সাময়িকভাবে অন্য কোনো সহজ পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে কি না—তা নিয়ে কাজ চলছে। প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং হিসাব সমন্বয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো আরও কিছু সময় চেয়েছে।
তবে এসব জটিলতা থাকলেও সরকারি নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে—নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না। অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর ধরা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্যমতে, গেজেট প্রকাশ কিছুটা দেরিতে হলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। কারণ নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা কার্যকরের তারিখ থেকে গণনা করা হবে এবং প্রয়োজনে বকেয়াসহ পরিশোধ করা হবে। ফলে গেজেট প্রকাশের সময় নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বাস্তবায়নের তারিখ অপরিবর্তিত থাকবে।
এখন সরকারি চাকরিজীবীদের দৃষ্টি আগামী ২৪ জুনের সচিব কমিটির বৈঠকের দিকে। কারণ এই বৈঠকেই দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ, বেতন বৃদ্ধি, বৈষম্য নিরসন এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। লাখো কর্মকর্তা-কর্মচারী এখন সেই ঘোষণার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
সূত্র: বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস

নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) চূড়ান্ত করতে সরকার যথেষ্ট রাজনৈতিক সাহস দেখাতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখলে সরকারের প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।
১৮ ঘণ্টা আগে

আজ সোমবার ঢাকাসহ দেশের আটটি অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অভ্যন্তরীণ
২১ ঘণ্টা আগে

দেশের স্বর্ণের বাজারে আবারও বড় পরিবর্তন। সোনার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস। নতুন দামে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম গিয়ে ঠেকেছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকায়।
৪ দিন আগে

এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলি নিয়ে অপেক্ষার অবসান হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়েছে অনলাইনে বদলির আবেদন গ্রহণ। আগামী ২৭ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষকরা এই আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
৪ দিন আগে

বিশ্ববাজারে সোনা ও রুপার দামের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারেও নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ফলে স্বর্ণালংকার কেনার পরিকল্পনা থাকলে দোকানে যাওয়ার আগে সর্বশেষ বাজারদর জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে বুধবার (১৯ আগস্ট) নতুন করে সোনা ও রুপার দাম নির্ধারণ করেনি বাজুস। ফলে বর্তমানে দেশের বাজারে গত শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া দামেই সোনা ও রুপা বিক্রি হচ্ছে।
৪ দিন আগে

ইমানের পর একজন মুমিনের জন্য ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ আমল হলো নামাজ। একজন মুমিন ও কাফেরের মধ্যে বড় পার্থক্যগুলোর একটি হলো নামাজ। নিয়মিত নামাজ মানুষকে দুনিয়ার বিভিন্ন খারাপ ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৪ দিন আগে

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আজ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টি এবং মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। বৃষ্টির পাশাপাশি অস্থায়ী দমকা হাওয়াও বয়ে যেতে পারে। এদিকে বৃষ্টির প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
৪ দিন আগে

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায়। রাজধানীর বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।
৪ দিন আগে

আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।
৬ দিন আগে