ঢাকা, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২

হাসান

রিপোর্টার

নতুন সরকারের সামনে কঠিন পরীক্ষা: চ্যালেঞ্জ ৭টি

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ০০:৪৬:৪৫
নতুন সরকারের সামনে কঠিন পরীক্ষা: চ্যালেঞ্জ ৭টি

হাসান: প্রায় বিশ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। তবে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের এই অধ্যায় যতটা ঐতিহাসিক, সামনে পথচলা ততটাই চ্যালেঞ্জে ভরা।

সরকার গঠনের শুরুতেই নতুন প্রশাসনকে অভ্যন্তরীণ সংকট, অর্থনৈতিক চাপ এবং জটিল আন্তর্জাতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথম একশ দিনই ঠিক করে দেবে এই সরকারের গতিপথ।

বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের উপরে অবস্থান করছে। এর মধ্যেই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস—যে সময় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা হবে নতুন সরকারের প্রথম অগ্নিপরীক্ষা।

অন্যদিকে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ২০২৬ সালে বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধের বড় চাপ সামনে। এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ধাক্কাও বিবেচনায় রাখতে হবে। অর্থাৎ, রাজস্ব সংগ্রহ, ব্যয় সংকোচন ও আর্থিক সংস্কারের সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।

নতুন সরকারের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা একটি বড় পরীক্ষা। দলীয় পরিচয়ে দখলদারি, চাঁদাবাজি কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ‘মব কালচার’ এই প্রবণতাগুলো দমন করতে না পারলে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

একই সঙ্গে দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের বাইরে থাকার পর তারেক রহমানের জন্য দলীয় শৃঙ্খলা পুনর্গঠনও বড় চ্যালেঞ্জ। অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানো, নেতৃত্বের সমন্বয় গড়া এবং দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে এগুলো নিশ্চিত করাই হবে নেতৃত্বের দক্ষতার পরীক্ষা।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারসাম্য রক্ষা করাও নতুন সরকারের জন্য জটিল কাজ। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও পাকিস্তান—এই চার দেশের সঙ্গে সম্পর্কের কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য, চীনের সঙ্গে সামরিক ও অবকাঠামো সহযোগিতা এবং ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোতে কূটনৈতিক প্রজ্ঞার প্রয়োজন হবে।

দেশীয় রাজনীতিতে আন্দোলনের সময় ঘোষিত ‘জুলাই সনদ’ এবং বিএনপির ঘোষিত ‘৩১ দফা’ বাস্তবায়ন জনগণের বড় প্রত্যাশা। রাষ্ট্র মেরামতের এ প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে গিয়ে বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর চাপ সামলাতে হবে।

এর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপতথ্য ও এআই-নির্মিত গুজব মোকাবিলা করাও হবে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের পর থেকেই ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচার ও সংগঠিত গুজবের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া না দিলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের পর তারেক রহমান সরকারের সামনে এখন বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা—অর্থনীতি থেকে কূটনীতি, দলীয় শৃঙ্খলা থেকে জনমত সবক্ষেত্রেই সুষম ও কার্যকর নেতৃত্বই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের সাফল্য।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ