ঢাকা, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২

হাসান

রির্পোটার

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে যা বললেন তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১১:১০:৪৪
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে যা বললেন তারেক রহমান

হাসান: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে—ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের দায় তারা কোনোভাবেই উপেক্ষা করবে না। বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয় নয়; বরং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন।

প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা

নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ে তাকে বাংলাদেশের আদালতেই বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।

বিএনপির দাবি, ২০২৫ সালের নভেম্বরে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। সেই রায়ই প্রত্যর্পণের আইনি ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে দলটির নেতারা মনে করছেন।

কূটনৈতিক বার্তা: ‘সমমর্যাদার সম্পর্ক চাই’

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভারতকে শত্রু নয়, বরং সমমর্যাদার বন্ধু হিসেবেই দেখতে চায় বিএনপি। তবে ন্যায়বিচারের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।

তার ভাষায়, “আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই, কিন্তু সেটি হবে সমতার ভিত্তিতে। আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আদালতের রায়কে সম্মান জানানো প্রত্যেক দেশের দায়িত্ব।”

বিএনপির কূটনৈতিক কৌশল তাই পরিষ্কার—দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রেখে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করা।

জোট ও নাগরিক সমাজের চাপ

সরকার গঠনে বিএনপির মিত্র ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য এবং ছাত্রনেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত জুলাই বিপ্লবের চেতনা পূর্ণতা পাবে না।

এই জনমতের চাপ নতুন সরকারের ওপর রাজনৈতিক ও নৈতিক দায় তৈরি করেছে। জোটসঙ্গীরা চাইছে, ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হোক।

ভারতের প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক সমীকরণ

নয়াদিল্লি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইঙ্গিত দিয়েছে, পরিস্থিতি একটি বিশেষ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল। তবে ঢাকায় নতুন গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হওয়ায় আইনি অনুরোধগুলো গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এখন এক নতুন অগ্নিপরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে। প্রত্যর্পণ ইস্যু ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জনগণের প্রত্যাশা

সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া মিশ্র হলেও একটি বড় অংশ মনে করে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য শীর্ষ পর্যায়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। রাজধানীর এক ভোটার বলেন, “আমরা পরিবর্তনের জন্য ভোট দিয়েছি। সেই পরিবর্তনের অন্যতম অংশ হলো অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা।”

নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে এখন সবার নজর প্রত্যর্পণ ইস্যুর দিকে—আইনি, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক এই ত্রিমাত্রিক সমীকরণ কীভাবে সমাধান হবে, সেটিই আগামী দিনের বড় প্রশ্ন।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ