ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২

হাসান

রির্পোটার

এপস্টেইন ফাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম, যা জানা গেল

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ০১:২১:২৩
এপস্টেইন ফাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম, যা জানা গেল

হাসান: যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন যার নাম জড়িয়ে আছে যৌন পাচার, অর্থপাচার ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে গোপন যোগাযোগে তাঁর গোপন নথিপত্র আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’–এ উঠে এসেছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টু–র নাম, যা নতুন করে কৌতূহল ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এই ফাইলগুলো এপস্টেইনের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের গভীরতা ও বিস্তারকে সামনে এনেছে যেখানে গবেষণা, দাতব্য কাজ, জলবায়ু উদ্বাস্তু ইস্যু, রাজনীতি ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ একসূত্রে গাঁথা।

ই-মেইল সূত্রে শেখ হাসিনার নাম, বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার তথ্য

এপস্টেইন সংক্রান্ত উদ্ধারকৃত ই-মেইলগুলোর একটিতে দেখা যায়, একটি বৈঠকের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছিল। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তখন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন।

এই ই-মেইলটি এপস্টেইনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পরিধি ও রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তার পরোক্ষ সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ-সংক্রান্ত আগ্রহ: বিকাশ, জলবায়ু ও রাজনৈতিক প্রবন্ধ

নথিপত্রে আরও দেখা যায়, এপস্টেইন বাংলাদেশের ‘বিকাশ’ (মোবাইল ব্যাংকিং) নিয়ে প্রকাশিত একটি নিবন্ধ পড়েছিলেন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বহু গবেষণাপত্র ও প্রবন্ধ তার সংগ্রহে ছিল।

চমকপ্রদ তথ্য হলো একজন নরওয়েজিয়ান কূটনীতিক নিয়মিতভাবে এপস্টেইনকে বিভিন্ন প্রবন্ধ পাঠাতেন, যার মধ্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কিত লেখাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব তথ্য এপস্টেইনের আগ্রহের পরিধি যে কেবল অপরাধেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়েও বিস্তৃত ছিল তা স্পষ্ট করে।

‘এপস্টেইন ফাইলস’: কীভাবে উদ্ধার, কী আছে ভেতরে?

দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এপস্টেইনের বিভিন্ন সম্পত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নথি উদ্ধার করা হয়। এসব নথির সমষ্টিই পরিচিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে।

সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী—

৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি

প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি

প্রায় ২ হাজার ভিডিও

এসব উপাদানে উঠে এসেছে এপস্টেইনের মানি লন্ডারিং, যৌন পাচার, তার কারাগারে মানসিক মূল্যায়ন, মৃত্যুর রহস্য, সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্ত ও দোষ স্বীকার, এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তার ই-মেইল যোগাযোগ।

এই নথিপত্র প্রমাণ করে, গুরুতর আইনি সংকটে পড়েও এপস্টেইন বহু ক্ষমতাধর ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অপরাধ জগতের এক অন্ধকার অধ্যায় উন্মোচন করেছে।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ