
রিপোর্টার

বিভেদ ভুলে ঐক্যের পথে হাঁটছে বিএনপি। নতুন বছর ২০২৬-এর শুরুতে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে বহিষ্কৃত ও পদ স্থগিত হওয়া ২৩ জন নেতাকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনা হয়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের ওপর থেকে সব ধরনের শাস্তিমূলক বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
কেন ফিরলেন তাঁরা?দলীয় সূত্র জানায়, বহিষ্কৃত এই নেতারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে পুনরায় দলে ফেরার আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁদের অঙ্গীকার ও দলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে হাইকমান্ড তাঁদের সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে এখন থেকে তাঁরা দলের সাধারণ সদস্য হিসেবে কাজ করতে পারবেন এবং অনেকের স্থগিত হওয়া পদগুলোও সচল করা হয়েছে।
এক নজরে ক্ষমা পাওয়া উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দ
ক্ষমা পাওয়া নেতাদের তালিকায় সারা দেশের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী রয়েছেন:
ময়মনসিংহ ও রাজবাড়ী: ফুলবাড়িয়া পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামিম আহমেদ এবং কালুখালীর নারী নেত্রী কাজী শারমিন আক্তার টুকটুকি দলে ফিরলেন।
চাঁদপুর ও কক্সবাজার: হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব ইমাম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান রানা এবং কক্সবাজারের সাবেক নেত্রী জাহানারা বেগম পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেলেন।
বগুড়া ও গ্যালারি: সারিয়াকান্দি উপজেলা ও পৌর বিএনপির লুৎফুল হায়দার রুমি, শহিদুল ইসলাম স্বপনসহ একটি বড় অংশকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সিলেট ও মৌলভীবাজার: ওলামা দল নেতা মাওলানা আব্দুল হাকিম এবং রাজনগরের জুবায়ের আহমেদ চৌধুরীর ওপর থেকে বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়া হয়েছে।
স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও স্ব-স্ব পদে পুনর্বহালযাঁদের পদ আগে স্থগিত ছিল, তাঁদের মধ্যে সুনামগঞ্জের মদিনা আক্তার এবং মৌলভীবাজারের মতিন বকশ এখন থেকে আগের মতোই স্ব-স্ব পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল আজিমকেও দলে সক্রিয় করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের অভিমতরাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ঐক্য সুসংহত করতে এটি বিএনপির একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের এই খবরে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।