
বিশেষ প্রতিবেদন: এক রাতে নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গভীর ঘুম থেকে আতঙ্কিত অবস্থায় জেগে উঠলেন। তাঁর মুখে ধ্বনিত হচ্ছিল, *“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ!”* ঘুমন্ত স্ত্রীর কণ্ঠে উদ্বিগ্ন প্রশ্ন, “হে আল্লাহর রাসূল, কী হয়েছে?”
নবীজি (সাঃ) গভীর উদ্বেগ নিয়ে বললেন, “আজ রাতে আমি এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখেছি। এমন একটি ফিতনার ছায়া আমি অনুভব করেছি, যা আরব জাতির ওপর নেমে আসবে। এক ধ্বংসাত্মক বিপর্যয়, যা তাদের চেতনাকে গ্রাস করবে।”
তিনি আরও বললেন, “আজ রাতে আমি দেখেছি—যে দেয়াল যুলকারনাইন ইয়াজুজ-মাজুজ থেকে রক্ষার জন্য তৈরি করেছিলেন, তাতে একটি ফাঁক দেখা দিয়েছে। এই ফাঁক ভবিষ্যতের ফিতনার দরজা খুলে দিয়েছে।”
নবীজির ভাষ্য ছিল, “যেদিন সমাজে বেহায়াপনা, অশ্লীলতা ও নৈতিক অবক্ষয় ছড়িয়ে পড়বে—সেদিন শুধু সাধারণ মানুষ নয়, বরং জ্ঞানী-গুণী, আলেম, ইমাম এমনকি শিক্ষিত শ্রেণিও এই ধ্বংসের শিকার হবে।”
আজকের সমাজের দিকে তাকালে নবীজির সেই বর্ণনার প্রতিচ্ছবি যেন স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয়। আমরা দেখছি—পর্নোগ্রাফির দৌরাত্ম্য, বেপর্দা সংস্কৃতি, মাদকাসক্তি, সুদের প্রভাব এবং নৈতিকতাবিহীন এক তরুণ প্রজন্ম, যারা প্রযুক্তির দাসে পরিণত হয়েছে।
মোবাইল ফোনে গা ডুবিয়ে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিকটকে, ফেসবুকে, হারাম সম্পর্ক ও গেমের জগতে ডুবে থাকা এই প্রজন্ম কি আদৌ জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দিতে পারবে?
ভাই ও বোনেরা, এ সময়ে একমাত্র আশ্রয় ইসলামী শিক্ষা, কোরআনের আলো, এবং নামাজের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি। আমাদের দরকার এমন অভিভাবক, যারা সন্তানদের শুধু আধুনিক শিক্ষায় নয়, বরং ইসলামের ভিত্তিতে গড়ে তুলবেন—নৈতিক, আত্মনিয়ন্ত্রিত এবং ঈমানদার করে।
আমরা ভুলে গেছি আমাদের গৌরবোজ্জ্বল অতীত—যেখানে মুসলিম বিজ্ঞানী, দার্শনিক ও চিকিৎসকরা মানবসভ্যতার শিখরে পৌঁছেছিলেন। ইবনে সিনা, জাবির ইবনে হাইয়ান, ইবনে রুশদের মতো মনীষীরা ছিলেন আমাদের ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র।
আজ যদি আমরা প্রযুক্তিকে গ্রহণ করি, তবে তা হওয়া উচিত দ্বীনের খেদমতে ব্যবহৃত এক উপায়। আমাদের দায়িত্ব হলো সমাজে নৈতিকতা ফিরিয়ে আনা এবং ইসলামের দাওয়াতকে পৌঁছে দেওয়া প্রতিটি হৃদয়ে।
আমাদের সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যেন তারা হয় হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর মতো আত্মত্যাগী, হযরত মারিয়াম (আঃ)-এর মতো পবিত্র চরিত্রের অধিকারী। তাদের জীবন হোক দীনের পথে এক আলোকবর্তিকা—not TikTok এর ভিডিও আর প্রেমের গল্পে বিভোর এক দিশাহীন প্রজন্ম।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করুন। আমাদের সন্তানদের হেফাজত করুন এই অশ্লীলতা ও বিপথগামিতা থেকে। আমিন।
— সোহাগ/

২০২৭ সালের পবিত্র হজ পালনের জন্য প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় শেষ হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হজে যেতে ইচ্ছুকদের প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না।
২ দিন আগে

মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দিনের শুরুতেই ফজরসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি জানতে চান। আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব ও এশার নামাজের সময় নিয়ে তাই আগ্রহ রয়েছে অনেকের।
৪ দিন আগে

দাম্পত্য জীবনে নানা কারণে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলতে থাকলে এবং পারস্পরিকভাবে তা সমাধানের কোনো পথ খুঁজে পাওয়া না গেলে ইসলামে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বিচ্ছেদকে সহজ বা প্রথম সমাধান হিসেবে গ্রহণ না করে সম্ভব হলে দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার প্রতি কোরআন ও হাদিসে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইমানের পর ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সালাত বা নামাজ। নামাজ ইসলামের প্রাণ এবং একজন মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ইসলামী শরিয়তে বিভিন্ন নফল নামাজ আদায়েরও বিধান রয়েছে।
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুসলমানদের কাছে জুমার দিন সপ্তাহের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ দিন। এ দিনকে ঘিরে রয়েছে বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমল। এর মধ্যে অন্যতম হলো বেশি বেশি দোয়া করা। হাদিসে জুমার দিনের এমন একটি বিশেষ সময়ের কথা বর্ণিত হয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। তবে সেই বিশেষ সময়টি দিনের ঠিক কোন অংশ—এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে।
২৮ আগস্ট ২০২৬

ইমানের পর একজন মুমিনের জন্য ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ আমল হলো নামাজ। একজন মুমিন ও কাফেরের মধ্যে বড় পার্থক্যগুলোর একটি হলো নামাজ। নিয়মিত নামাজ মানুষকে দুনিয়ার বিভিন্ন খারাপ ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২১ আগস্ট ২০২৬

চলতি বছরটি শেষ হওয়ার আগেই আগামী ২০২৭ সালের (১৪৪৮ হিজরি) পবিত্র রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের মাঝেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ। মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণা এবং প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে পবিত্র রমজান মাস শুরুর সম্ভাব্য তারিখ এবং দুই ঈদের মূল কাঠামো কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে।
৩০ জুলাই ২০২৬

দিনভর ব্যস্ততা, কর্মজীবনের চাপ আর নানা দুশ্চিন্তার পর রাতের ঘুমই হয়ে ওঠে মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশান্তির সময়। কিন্তু অনেকেই ঘুমানোর আগে সময় কাটান মোবাইল ফোনে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা অপ্রয়োজনীয় কাজে। অথচ ইসলাম একজন মুমিনের জন্য ঘুমানোর আগেও রেখে দিয়েছে সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল, যা পালন করতে সময় লাগে মাত্র এক মিনিট।
১৮ জুন ২০২৬

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ শুধু জীবদ্দশায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের মৃত্যুর পরও এই দায়িত্ব অব্যাহত রাখার নির্দেশনা এসেছে হাদিসে।
১ জুন ২০২৬