
রিপোর্টার

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় উল্লম্ফনের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়েছে দেশের বাজারেও। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ডলারের মান কমে যাওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ওয়াশিংটন-তেহরান রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক ও স্থানীয় বাজারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে কী ঘটছে?
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম জিএমটি সময় সকাল ০৮:৪১ মিনিটে ০.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫,১৯০.৯৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারস ০.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৫,২১০.৪০ ডলারে।
মার্কিন ডলার সূচক কিছুটা দুর্বল হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। ফলে চাহিদা বেড়ে গিয়ে দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।
দেশের বাজারে নতুন দর কার্যকর
আন্তর্জাতিক বাজারের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দর নির্ধারণের কথা জানানো হয়।
ভরি প্রতি স্বর্ণের নতুন দাম:
২২ ক্যারেট: ২,৬১,০৪০ টাকা
২১ ক্যারেট: ২,৪৯,১৪৩ টাকা
১৮ ক্যারেট: ২,১৩,৫৬৮ টাকা
সনাতন পদ্ধতি: ১,৭৪,৭৮৫ টাকা
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড)-এর দামের পরিবর্তনের কারণে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লিখিত দামের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকারি ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত হবে।
আগের দামের সঙ্গে পার্থক্য
এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি স্বর্ণের দাম এক দফা সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের ভরি ছিল ২,৫৮,৮২৪ টাকা। অর্থাৎ কয়েক দিনের ব্যবধানেই ভরিতে দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
রুপার বাজারে স্থিতিশীলতা
স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে ভরি প্রতি রুপার দাম—
২২ ক্যারেট: ৬,৭০৭ টাকা
২১ ক্যারেট: ৬,৪১৫ টাকা
১৮ ক্যারেট: ৫,৪৮২ টাকা
সনাতন পদ্ধতি: ৪,০৮২ টাকা
স্বর্ণের টানা মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে রুপার বাজার আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।
সার্বিক বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা যতদিন থাকবে, ততদিন স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে ঝুঁকছেন, যা দামের ওপর চাপ তৈরি করছে।
দেশের বাজারে স্বর্ণ কেনাবেচার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সর্বশেষ মূল্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।