রিপোর্টার

হাসান: মালয়েশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য সাবাহর উপকূলে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে আঘাত হানা এ কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ১। হঠাৎ তীব্র কম্পনে ঘুম ভেঙে যায় বহু মানুষের, অনেকেই আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
কেন্দ্রস্থল ও গভীরতা
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্যমতে, কম্পনের কেন্দ্র ছিল সাবাহ অঙ্গরাজ্যের রাজধানী কোটা কিনাবালু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটারের কম দূরে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬২০ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হয়, যা অত্যন্ত গভীর হিসেবে বিবেচিত।
এত গভীর উৎস থেকে সৃষ্টি হওয়ায় কম্পনের মাত্রা বেশি হলেও স্থলভাগে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ বা হতাহতের আশঙ্কা খুবই কম বলে জানানো হয়েছে।
সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই
সুনামি সতর্কীকরণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমুদ্রের অনেক গভীরে কম্পন হওয়ায় সুনামির কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে উপকূলীয় এলাকায় বড় ধরনের বিপদের শঙ্কা আপাতত নেই।
স্থানীয় পর্যবেক্ষণ
মালয়েশিয়ার আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের রেকর্ডে কম্পনের মাত্রা ৬ দশমিক ৮ বলে উল্লেখ করেছে। তারা জানিয়েছে, সাবাহর পশ্চিম উপকূল ছাড়াও প্রতিবেশী সারাওয়াক রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের গভীরতা অনেক বেশি হওয়ায় স্থলভাগে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম পড়েছে। তবুও আকস্মিক এই শক্তিশালী কম্পনে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিরল কিন্তু সতর্কতার প্রয়োজন
সাবাহ অঞ্চলে মাঝেমধ্যে মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হলেও এত গভীর উৎসের ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে বিরল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ভূমিকম্প সাধারণত বড় ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে না, তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ও সচেতনতা বজায় রাখা জরুরি।