
সিনিয়র রির্পোটার

দল থেকে বহিষ্কার এবং মনোনয়ন না পাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকলেও সাবেক দল বিএনপির প্রতি কোনো ধরনের ক্ষোভ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর গণমাধ্যমের সামনে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও আগামীর পরিকল্পনা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন তিনি।
মনোনয়ন যুদ্ধে উত্তীর্ণ রুমিন: ভোটের লড়াইয়ে ১১ প্রার্থীব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান যাচাই-বাছাই শেষে জমা পড়া ১১টি মনোনয়নের সবগুলোই বৈধ ঘোষণা করেছেন। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে থাকছেন বিএনপির এই সাবেক আলোচিত সংসদ সদস্য। উল্লেখ্য, এই আসনটি জোটগত সমঝোতার কারণে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি।
"ব্যর্থতা ছিল না, দল চাইলে নতুন নেতৃত্ব আসুক"মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর সাংবাদিকদের রুমিন ফারহানা বলেন, "দলের প্রতি আমার কোনো কষ্ট নেই। বেগম খালেদা জিয়া আমাকে যে বড় দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তা আমার বয়স ও অভিজ্ঞতার তুলনায় ছিল অনেক বিশাল। আমি সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।" তিনি আরও যোগ করেন, "২০২২ সালে দল যখনই পদত্যাগ করতে বলেছিল, আমি এক সেকেন্ডও দেরি করিনি। এখন দল যদি মনে করে আমার আর প্রয়োজন নেই বা নতুন নেতৃত্ব আনা দরকার, আমি তাকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু আমি আমার রাজনীতি থামিয়ে দেব না।"
কর্মীদের ভয় দেখালে প্রতিরোধের হুঁশিয়ারিনির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই নেতাকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই আইনজীবী। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু এলাকায় তাঁর কর্মীদের মিথ্যা মামলার ভয় ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, "নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে কোনো অপচেষ্টা চালানো হলে আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব। কর্মীদের ওপর যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করব সরাসরি প্রশাসনের মাধ্যমে।"
দলীয় টিকিট না পেয়েও এবং বহিষ্কৃত হয়েও রাজপথের এই লড়াকু নেত্রী স্বতন্ত্র হিসেবে কতটা চমক দেখাতে পারেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী।