
রিপোর্টার

বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু নয়াপল্টনে আজ বইছে উৎসবের জোয়ার। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ৬ মিনিটে সশরীরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পদার্পণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকা রূপ নিয়েছে এক বিশাল জনসমুদ্রে।
কার্যালয়ে প্রবেশের পরপরই তারেক রহমান সরাসরি দ্বিতীয় তলার বারান্দায় এসে দাঁড়ান। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মীর উদ্দেশ্যে তিনি হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় মুহুর্মুহু স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম প্রিয় নেতাকে নিজ আঙিনায় সশরীরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তৃণমূলের অসংখ্য কর্মী।
দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে এক সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন তারেক রহমান। তিনি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ডাক দিয়ে বলেন, “দেশের সমৃদ্ধির জন্য যার যেটুকু অবস্থান আছে, সেখান থেকেই আপনারা এগিয়ে আসুন। আমরা সবাই মিলে একযোগে আমাদের এই প্রিয় দেশটাকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করি।” তাঁর এই সংহতির ডাক নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে।
হাই প্রোফাইল এই সফরকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) সদস্যরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো এলাকায় পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর নজরদারির পাশাপাশি র্যাবের একটি প্রশিক্ষিত ‘ডগ স্কোয়াড’ দিয়ে নিচ্ছিদ্র তল্লাশি চালানো হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে সাধারণ নেতাকর্মীদের কার্যালয়ে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
দেড় দশকেরও বেশি সময় লন্ডনে কাটানোর পর তারেক রহমানের এই সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের আগামীর রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাঁর এই উপস্থিতি দলের চেইন অফ কমান্ডকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নির্বাচনী মাঠের লড়াইয়ে বিএনপিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে রাখবে।