
রিপোর্টার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিন দিনের বিশেষ কর্মশালা শেষ করেছে বিএনপি। তবে এই আয়োজন শুধু নির্বাচনি প্রশিক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং এটি হয়ে উঠেছে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করার এক অঘোষিত筛筛 (ফিল্টারিং) প্রক্রিয়া। গুলশানে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় কারা আমন্ত্রণ পেলেন আর কারা পেলেন না সেই হিসাবেই ধানের শীষের প্রার্থী তালিকায় বড় ধরনের রদবদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।
আমন্ত্রণই ইঙ্গিত: যাদের ভাগ্য খুলছে, যারা পড়ছেন পিছিয়ে
দলীয় সূত্র বলছে, কর্মশালায় আমন্ত্রিতদের তালিকা বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায় আগে ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি অংশ এবার বাদ পড়তে যাচ্ছেন।
ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, চট্টগ্রাম-৬ আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং যশোর-৬ আসনে কাজী রওনকুল ইসলাম এই তিন নেতা কর্মশালায় ডাক না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।
সবচেয়ে বড় চমক এসেছে চট্টগ্রাম-৪ আসন থেকে। সেখানে কাজী সালাউদ্দিনের পরিবর্তে কর্মশালায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আসলাম চৌধুরীকে, যা কার্যত তাঁর মনোনয়নের সবুজ সংকেত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
জোট সমীকরণ ছাপিয়ে লক্ষ্মীপুরে বিএনপির আধিপত্য
জোট রাজনীতির হিসাবকে ছাপিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি আসনেই বিএনপি নিজেদের প্রার্থী দিতে যাচ্ছে এমন বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে কর্মশালার তালিকা থেকে।
লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া শাহাদাত হোসেন সেলিমের নাম প্রায় চূড়ান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এতে করে লক্ষ্মীপুরে মিত্র দলকে আসন ছেড়ে দেওয়ার যে গুঞ্জন চলছিল, তা কার্যত নাকচ হয়ে গেল।
বাগেরহাটেও চার আসনেই ‘ঘরের প্রার্থী’
একই চিত্র দেখা গেছে বাগেরহাট জেলায়। জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির নিজস্ব প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।সম্ভাব্য চূড়ান্ত প্রার্থীরা হলেন-
কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল
ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন
ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম
সোমনাথ দে
তারেক রহমানের কড়া নির্দেশ: ‘স্মার্ট কার্ড’ নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে
কর্মশালার সমাপনী দিনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের স্পষ্ট ও কৌশলগত বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রচলিত পোস্টার-নির্ভর রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে স্মার্ট ও ডিজিটাল নির্বাচনি কৌশল গ্রহণের নির্দেশ দেন।
তারেক রহমানের দেওয়া প্রধান নির্দেশনাগুলো হলো-
জনকল্যাণমূলক বার্তা পৌঁছানো: ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও কৃষি কার্ডসহ ভবিষ্যৎ নাগরিক সুবিধার পরিকল্পনা ভোটারদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।
ডিজিটাল প্রচার জোরদার: প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় একজন করে দক্ষ সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার নিয়োগ এবং কৃষকদের জন্য ডিজিটাল নেটওয়ার্কিংয়ের ব্যবস্থা।
এজেন্ট ব্যবস্থাপনা: পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষক তালিকা ও নির্বাচনি এজেন্টদের পূর্ণাঙ্গ ডেটা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ।
বাকি ২৮ আসনের সিদ্ধান্ত আসছে শিগগিরই
এ পর্যন্ত বিএনপি ২৭২টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেছে। বাকি থাকা ২৮টি আসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসছে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই। এর কিছু আসন মিত্র ও শরিক দলগুলোর জন্য সংরক্ষিত থাকলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আলোচনার ভিত্তিতে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কর্মশালার মধ্য দিয়ে বিএনপি মাঠপর্যায়ে কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল প্রচারণা ও ভোটার সংযোগ এই তিন স্তম্ভে একযোগে কাজ শুরু করেছে। ঘরে ঘরে গিয়ে দলীয় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বাস্তব রূপরেখা তুলে ধরাই এখন বিএনপির প্রধান কৌশল।