
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসরাইল এখন সীমালঙ্ঘনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ এই জাতিকে একাধিকবার সতর্ক করেছেন। বর্ণনা করেছেন—ইহুদি জাতি কীভাবে অতীতে সীমা লঙ্ঘন করায় ভয়াবহ শাস্তির সম্মুখীন হয়েছিল। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতের পতনের পূর্বাভাসও দিয়েছেন, যা আজ আবার বাস্তবতার রূপ নিচ্ছে।
ফিলিস্তিনের রক্তাক্ত ভূমি, শিশুদের কান্না, নারীদের আর্তনাদ আর বিশ্ব মুসলিমদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ—সব মিলিয়ে একটি প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে: “কবে আসবে সেই প্রতিশোধের দিন, যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন কোরআনে?”
বনী ইসরাইল জাতি ইতিহাসে দুইবার দুনিয়ায় বড় ফিতনার জন্ম দেয়। কোরআন ও হাদীসে এসব ঘটনার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে। মুসা (আঃ)-এর উত্তরসূরি ইউসা (আঃ)-এর নেতৃত্বে বনী ইসরাইল ফিলিস্তিন জয় করে এবং ১২টি অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই বিভক্তি তাদের দুর্বল করে তোলে। সুযোগ বুঝে আসিরিয়ানরা একের পর এক রাজ্য দখল করে নেয়।
পরে তালুত (আঃ) ও দাউদ (আঃ)-এর মাধ্যমে বিজয় আসে। সুলাইমান (আঃ)-এর সময় এই সাম্রাজ্য সর্বোচ্চ বিস্তারে পৌঁছায়। প্রায় ১০০ বছর ধরে চলে এই শাসনকাল।
কিন্তু সুলাইমান (আঃ)-এর মৃত্যুর পর তার সন্তানদের মধ্যকার ক্ষমতার দ্বন্দ্বে বনী ইসরাইল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে—উত্তরে “ইসরাইল” ও দক্ষিণে “জুদাইয়া”। এই বিভক্তিই তাদের পতনের সূচনা করে। কালো জাদু, জুয়া, নির্লজ্জতা ও ধর্ম থেকে বিচ্যুতি তাদের ঈমান ও জাতিগত শক্তিকে দুর্বল করে তোলে।
প্রথম ধ্বংস আসে ব্যাবিলোনিয় রাজা নেবুচাদনেজারের (নাবুখোদোনসর) হাত ধরে। তিনি ঈসা (আঃ)-এর জন্মের ৫৮৭ বছর আগে জেরুজালেম দখল করে নেন। ধ্বংস করেন আল-আকসা মসজিদ—যা জ্বিনদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল সুলাইমান (আঃ)-এর আদেশে। প্রায় ৬ লাখ ইহুদিকে হত্যা করা হয় এবং ৬ লাখকে দাস হিসেবে বন্দী করে ইরাকে নিয়ে যাওয়া হয়। ইতিহাসে একে বলা হয় “প্রথম ডায়াসপোরা”।
এই ঘটনার ভবিষ্যদ্বাণী পবিত্র কোরআনের সূরা বনী ইসরাইলে রয়েছে: > _“তোমরা দুনিয়ায় দুইবার ফাসাদ সৃষ্টি করবে এবং অহংকারে চরমে পৌঁছাবে। তখন আমি পাঠাব আমার কঠোর সৈন্যবাহিনী, যারা তোমাদের গৃহে প্রবেশ করে ধ্বংস করবে।”_ (সূরা বনী ইসরাইল: ৪-৫)
কিন্তু আল্লাহর রহমতে তারা ফের জেগে ওঠে। উজাইর (আঃ)-এর নেতৃত্বে তারা দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়। ইরানি রাজা সাইরাস দ্য গ্রেট ইহুদিদের নিজভূমিতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেন। গড়ে ওঠে দ্বিতীয় ইহুদি শাসন, আগের চেয়েও প্রভাবশালী।
আল্লাহ তাদের দিয়েছিলেন ক্ষমা, সুযোগ ও সমৃদ্ধি। কোরআনে বলা হয় _“আমি তোমাদের সাহায্য করেছি সম্পদ ও সন্তান দিয়ে। তোমরা সংখ্যায় ও প্রভাবে শত্রুকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলে।”_
কিন্তু ক্ষমতা পেলেই তারা ফেরে অপকর্মে। জুয়া, জাদুবিদ্যা, নির্লজ্জতা আর ফাসাদে জড়িয়ে পড়ে তারা। এবার তাদের ওপর আসে রোমানদের শাসন। এই সময়েই জন্ম নেন ঈসা (আঃ)। বনী ইসরাইল তাকে নবী মানতে অস্বীকৃতি জানায় এবং হত্যার ষড়যন্ত্র করে।
ঈসা (আঃ)-এর জন্মের ৭০ বছর পর, রোমান সম্রাট টাইটাস জেরুজালেম অবরোধ করেন। ইতিহাসে বলা হয়, মাত্র একদিনে তিনি হত্যা করেন ১ লাখ ৩ হাজার ইহুদিকে, এবং ধ্বংস করে দেন মসজিদ আল-আকসা। এবার শুরু হয় দ্বিতীয় ডায়াসপোরা। ইহুদিরা পবিত্র ভূমি থেকে ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে।
কোরআনে এই দ্বিতীয় শাস্তির কথাও এসেছে: _“তোমরা যদি ভালো পথে চলো, তা তোমাদের জন্যই। আর যদি ফের পাপ করো, তবে আমিও ফিরব শাস্তির দিকে।”_ (সূরা বনী ইসরাইল: ৭-৮)
ইহুদিরা ভাবতো শেষ নবী তাদের মধ্য থেকেই আসবেন। তারা মদিনার আরবদের বলত: _“শেষ নবী এলে আমরা তোমাদের পরাজিত করব।”_
কিন্তু যখন রাসূল মুহাম্মদ (সা.) এলেন—ইসমাইল (আঃ)-এর বংশ থেকে—তারা ঈর্ষা ও অন্ধতা বশত নবীকে অস্বীকার করে। এরপরই মুসলিমদের কিবলা বদলে দেয়া হয় আল-আকসা থেকে কাবা শরীফে। এর মাধ্যমে ইহুদিদের ঈমানী সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়।
আজ ইসরাইল শিশু হত্যা, নারী নির্যাতন, অবরোধ, মসজিদ আক্রমণসহ দুনিয়াজুড়ে নতুন ফিতনার জন্ম দিচ্ছে। তারা ফের সেই পথেই হাঁটছে, যা অতীতে তাদের দুইবার ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।
এখন মুসলিম বিশ্ব অপেক্ষায়—আল্লাহর সেই তৃতীয় এবং চূড়ান্ত প্রতিশোধ কবে আসবে? আল্লাহ বলেন— _“যদি তারা ফিরে আসে (পাপে), তবে আমিও ফিরব (শাস্তিতে)।”_ (সূরা বনী ইসরাইল: ৮)
সোহাগ/

রাকিব: পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া পূর্ব সাগরের দিকে অন্তত ১০টি অজ্ঞাত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
১৭ ঘণ্টা আগে

সাকিব: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত ইতোমধ্যে ১৩ দিনে গড়িয়েছে এবং এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে। একের পর এক হামলা, পাল্টা হামলা ও সামরিক অভিযানে বহু দেশে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
২ দিন আগে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের চলমান মারাত্মক সংঘাতের মাঝে যুক্তরাষ্ট্র নতুন এক নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে। গত কয়েক দশকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ৬টি মার্কিন পারমাণবিক ওয়ারহেড বা বোমা নতুন করে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা সৃষ্টি করছে। মার্কিন সামরিক পরিভাষায় যেগুলোকে “ব্রোকেন অ্যারো” বা নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, সেগুলো শত্রু দেশের হাতে পড়লে বৈশ্বিক নিরাপত্তা গুরুতর হুমকির মুখে পড়তে পারে।
৩ দিন আগে

হাসান: কয়েকদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও হঠাৎ করেই বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি শিগগির শেষ হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিতের পর বৈশ্বিক তেলবাজারে চাপ কমেছে।
৪ দিন আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের জন্য সুখবর দিয়েছে ইরান। দেশের অনুরোধ মেনে ইরান জানিয়েছে, বাংলাদেশের তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে কোনো বাধার সম্মুখীন হবে না। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
৪ দিন আগে

সাকিব: মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশলগত ঘোষণা নিয়ে। তিনি সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির ওপর সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন, যা বিশ্ববাজারের জ্বালানি সরবরাহকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে।
৪ দিন আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা কমতেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
৪ দিন আগে

সাকিব: ইরানে সাম্প্রতিক ইসরাইল–যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে তেহরান যখন ইসরাইলের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, তখনই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাগ্য নিয়ে নানা গুঞ্জন।
৪ দিন আগে

সাকিব: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওমান সরকার। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব শ্রমিকের মার্চ মাসের বেতন আগাম পরিশোধ করতে হবে।
৫ দিন আগে