ঢাকা, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

হাসান

রির্পোটার

মহাকাশে পৃথিবীর মতো আরেকটি গ্রহ খুঁজে পেলো বিজ্ঞানীরা- দেখুন বিস্তারিত

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ০০:০৩:২৪
মহাকাশে পৃথিবীর মতো আরেকটি গ্রহ খুঁজে পেলো বিজ্ঞানীরা- দেখুন বিস্তারিত

হাসান: সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহ পৃথিবীই এখন পর্যন্ত প্রাণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী পরিবেশের একমাত্র নিশ্চিত উদাহরণ। সূর্য থেকে উপযুক্ত দূরত্ব, অনুকূল কক্ষপথ ও জটিল পরিবেশগত ভারসাম্যের কারণেই এখানে জীবন বিকশিত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এক মহাকাশ আবিষ্কার নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিজ্ঞানীরা এমন একটি নতুন গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন, যা বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে অনেকটাই পৃথিবীর মতো, যদিও বর্তমানে সেটি বরফশীতল।

মহাকাশ গবেষণার অগ্রগতির ফলে সৌরজগতের বাইরের গ্রহ আবিষ্কার এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠেছে। তবু নতুন আবিষ্কৃত এই গ্রহটি বিজ্ঞানীদের বিশেষভাবে চমকে দিয়েছে। কারণ, এর আকার, কক্ষপথ ও নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণনের সময়কাল পৃথিবীর সঙ্গে বিস্ময়কর মিল দেখাচ্ছে। ফলে বিজ্ঞানীদের ধারণা উপযুক্ত পরিবেশ থাকলে এটি ভবিষ্যতে বাসযোগ্য হতে পারে। যদিও এমন সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫০ আলোকবর্ষের কম দূরত্বে অবস্থিত এই গ্রহটির নাম দেওয়া হয়েছে এইচডি-১৩৭০১০ বি। আকারে এটি পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ১.২ গুণ বড়। গ্রহটি একটি বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে, যার ভর আমাদের সূর্যের ভরের প্রায় ৭০ শতাংশ। সেই নক্ষত্রকে একবার ঘুরে আসতে গ্রহটির সময় লাগে প্রায় ৩৫৫ দিন যা পৃথিবীর ৩৬৫ দিনের বছরের কাছাকাছি। এমনকি কক্ষপথের গঠন ও দূরত্বও পৃথিবীর মতো হওয়ায় বিজ্ঞানীরা এটিকে সম্ভাব্য বাসযোগ্য অঞ্চলের মধ্যে গণ্য করছেন। গবেষণায় এই সম্ভাবনা প্রায় ৫১ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নক্ষত্রটির তেজ সূর্যের তুলনায় কম হলেও এর আয়ু বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে নক্ষত্র সক্রিয় থাকলে গ্রহটিও স্থিতিশীল থাকতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, অন্তত নক্ষত্রের অতিরিক্ত তাপে দ্রুত ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি এই গ্রহের নেই। এ কারণে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য গ্রহটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই গ্রহটি আবিষ্কৃত হয়েছে নাসার কেপলার স্পেস টেলিস্কোপের মাধ্যমে ট্রানজিট পদ্ধতিতে। দূরবর্তী নক্ষত্রের আলো সাময়িকভাবে ম্লান হলে বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন যে একটি গ্রহ তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করছে। এই পদ্ধতিতেই সৌরজগতের বাইরের অধিকাংশ গ্রহ শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এইচডি-১৩৭০১০ বি-এর ট্রানজিট এখন পর্যন্ত মাত্র একবার দেখা গেছে। তাই বিজ্ঞানীরা আরও তথ্য সংগ্রহের ওপর জোর দিচ্ছেন।

তাপমাত্রার দিক থেকে গ্রহটি বর্তমানে অত্যন্ত শীতল। অনুমান করা হচ্ছে, এর তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৬৮ থেকে ৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে যা মঙ্গলগ্রহের চেয়েও কম। গ্রহটি তার নক্ষত্র থেকে পৃথিবীর তুলনায় এক-তৃতীয়াংশেরও কম শক্তি পায়। ফলে তরল জলের উপস্থিতি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে মাঝারি মাত্রার কার্বন ডাই অক্সাইডযুক্ত বায়ুমণ্ডল থাকলে ভবিষ্যতে জল তরল অবস্থায় থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করছেন, পৃথিবীর ইতিহাসেও বহুবার দীর্ঘ ‘হিমযুগ’ এসেছে, যখন পুরো গ্রহ বরফে ঢাকা ছিল। সেক্ষেত্রে এই নতুন গ্রহটিও হয়তো এমন একটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলালে সেখানে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হতে পারে এমন সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ধারণা করা হচ্ছে, এই নক্ষত্রের চারপাশে আরও গ্রহ থাকতে পারে, যা ভবিষ্যৎ গবেষণায় নতুন চমক এনে দিতে পারে।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ