ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২

রাকিব

সিনিয়র রিপোর্টার

আসন ভিত্তিক ফল ঘোষণা-বিএনপি পেল যত আসন?

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৩ ১৪:০২:৩৭
আসন ভিত্তিক ফল ঘোষণা-বিএনপি পেল যত আসন?

টানটান উত্তেজনা, দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং সারাদেশজুড়ে নজরকাড়া ভোটযুদ্ধের পর অবশেষে প্রকাশিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল। নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়ে ৬৩টি আসনে জয়লাভ করে সংসদের প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

ম্যাজিক সংখ্যা ছাড়িয়ে বিএনপির ভূমিধস বিজয়

সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫১টি আসনের সীমা অনেক আগেই অতিক্রম করেছে বিএনপি। সর্বশেষ বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, দলটি এককভাবে ২১৩টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফলকে নিঃসন্দেহে “ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি” বা ভূমিধস বিজয় বলা যায়। দীর্ঘ সময় পর একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে বিএনপির এই সাফল্য দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং জনসমর্থনের শক্তিশালী প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংসদের নতুন চিত্র: প্রধান বিরোধী দলে জামায়াত

এবারের নির্বাচনের আরেকটি বড় ঘটনা হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী উত্থান। দলটি ৬৩টি আসনে জয়লাভ করে সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে বহু বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দলটি এককভাবে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র দুই দলের সম্পর্ক এখন সংসদীয় কাঠামোর ভিন্ন ভূমিকায় নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে।

এক নজরে বেসরকারি ফলাফল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি): ২১৩ আসন — সরকার গঠন (সংখ্যাগরিষ্ঠতা)

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ৬৩ আসন — প্রধান বিরোধী দল

অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র: ২৪ আসন — অন্যান্য

মোট আসন: ৩০০

কেন এমন ফলাফল?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী পরিবেশ এই ফলাফলের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।বিএনপির তৃণমূলভিত্তিক কৌশল, প্রার্থী নির্বাচন এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আনার সক্ষমতা ছিল বড় শক্তি।অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী নিজেদের ভোটব্যাংক ধরে রেখে এবং তরুণ ভোটারদের একটি অংশকে আকৃষ্ট করে সংসদে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।

একজন সিনিয়র রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, “২১৩ ও ৬৩ এই দুটি সংখ্যা শুধু আসনের হিসাব নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর বড় পরিবর্তনের প্রতীক। শক্তিশালী সরকার এবং সংগঠিত বিরোধী দল—দুইয়ের সমন্বয়ে নতুন সংসদ গঠিত হতে যাচ্ছে।”

সামনে কী?

বিএনপি ইতোমধ্যে নতুন সরকার ও মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সংসদে কতটা গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারে—সেদিকেই এখন রাজনৈতিক মহলের নজর।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ