ঝগড়া হওয়ায় লঞ্চের কেবিনে হত্যা, ‘কথিত স্বামী’ গ্রেপ্তার

পারাবত-১১ লঞ্চের কেবিনে জান্নাতুল ফেরদৌস লাভলী (২৯) নামের এক যাত্রীকে হত্যার অভিযোগে মনিরুজ্জামান চৌধুরী (৩৪) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। লঞ্চের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজধানী ঢাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথ‌মিক জিজ্ঞাসাবাদে মনিরুজ্জামান পিবিআইকে জানিয়েছেন, লঞ্চে করে বরিশাল যাওয়ার পথে কেবিনে তাঁদের ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে লাভলীকে হত্যা করেন তিনি।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল নগরের রূপাতলীর উকিলবাড়ী সড়কের পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির।

গ্রেপ্তার হওয়া মনিরুজ্জামান চৌধুরীর বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায়। তবে তিনি ঢাকার মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের প্রিন্সিপাল আবুল কালাম রোডের সরকারি কোয়ার্টার এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁকে সেখান থেকে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর পিবিআই সদস্যদের সহায়তায় গ্রেপ্তার করেন বরিশাল জেলা পিবিআইয়ের সদস্যরা।

আজ সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকা থেকে বরিশাল নদীবন্দরে আসা পারাবত-১১ লঞ্চের ৩৯১ নম্বর সিঙ্গেল কেবিন থেকে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লঞ্চের কেবিনবয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজে ওই কেবিনে গিয়ে দরজা খোলা অবস্থায় ওই নারীর মৃতদেহ খাটের ওপর পরে থাকতে দেখেন। তাৎক্ষণিক নৌ পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। তারা মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে  শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

সুরতহাল ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে বিষয়টি হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর তদন্তে নামে আইনশৃঙ্খলা বা‌হিনীর বি‌ভিন্ন ইউ‌নিট।

পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির জানান, পিবিআই তদন্তের প্রথমভাগেই অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় জানতে পারে। জান্নাতুল ফেরদৌস লাভলী নামের ওই নারীর স্বামী ওলিয়ার রহমানের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আদমপুর এলাকায়। যদিও তিনি বাবা আবদুল লতিফ মিয়ার সঙ্গে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় থাকতেন। তিনি দুই ছেলের জননী।

এদিকে, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা ওই নারীর সঙ্গে লঞ্চে আসা ব্যক্তির সন্ধানে নামে পিবিআই। একপর্যায়ে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর সঙ্গে লঞ্চের সি‌সি ক্যামেরার ফুটেজের ছ‌বি মিলিয়ে নি‌শ্চিত হওয়া গেছে। অন্যদিকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে লাভলীর ব্যবহৃত ওড়না, মোবাইলসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। পাশাপা‌শি মনিরুজ্জামানকে লঞ্চে যে শার্ট‌ পরা অবস্থায় দেখা গেছে, সে‌টিও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির জানান, প্রাথ‌মিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মনিরুজ্জামান দাবি করেন, তাঁরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। লঞ্চে করে রাতে বরিশাল যাওয়ার পথে কেবিনে তাঁদের ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে লাভলীকে হত্যা করেন। লঞ্চটি বরিশালে পৌঁছালে মনিরুজ্জামান কৌশলে পালিয়ে বাসে করে ঢাকায় চলে যান।

এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া মনিরুজ্জামান মোটরসাইকেলের রাইড শেয়ারের চালক ছিলেন। লাভলী তাঁর তৃতীয় স্ত্রী বলে তিনি দাবি করেছেন। অন্যদিকে, লাভলীরও একাধিক বিয়ে হয়েছে। মনিরুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছে নাকি পরকীয়া করতে লঞ্চে উঠেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বিষয়‌টি নি‌শ্চিত করে ব‌রিশাল সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় নৌ পু‌লিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া মনিরুজ্জামানকে তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডের আবেদনও করা হতে পারে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ